Category Archives: Education

জিসক ২০১৪

পাঁচ কোটি লাইন ওপেন সোর্স কোড।

GSOC 2014 logo-blog

আবার চলে এলো জিসক। বেশ অনেকদিন পূর্বে ৮ই অক্টোবর ২০১৩ তেই জিসক ২০১৪ ঘোষণা করা হয়েছিলো। এবারে জিসক এর ১০ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বেশ কিছু নতুন ঘোষণা এসেছে,

    • বিগত বছরগুলোতে সর্বোচচ সংখ্যক ছাত্র যেসব দেশ থেকে অংশগ্রহন করা হয়েছে, জিসক কর্তৃপক্ষ সেই ১০টি দেশ ঘুরে প্রচারণা করবেন, এই প্রকল্প, স্থানীয় ছাত্র ও মেন্ট রদের।
    • ছাত্রদের প্রণোদনা বা stipend এর ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৫,৫০০ ডলার করা হয়েছে।

বিগত যেকোন বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারী নেওয়া হবে। অর্থ্যাৎ প্রায় ১,৩০০ ছাত্র-ছাত্রী এবার সুযোগ পাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:

  • ২৪শে ফেব্রুয়ারী: নির্বাচিত মেন্টরিং প্রতিষ্ঠানসমূহের তালিকা প্রকাশ

  • ১০ই মার্চ: ছাত্র-ছাত্রীদের অবেদন প্রক্রিয়া আরম্ভ

  • ২১শে মার্চ: আবেদন গ্রহন ডেডলাইন

অতীব গুরুত্বপূর্ণ: ২৪শে ফেব্রুয়ারীর পর থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারী পূর্ব পর্যন্ত ছাত্ররা পছন্দনীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে যোগাযোগ করে, প্রকল্প আইডিয়া দিতে পারেন। আপনার আইডিয়া গৃহীত হলে, আপনি আবেদন প্রক্রিয়া আরম্ভ হওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলে, নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। সংকোচ করবেন না, যোগাযোগ করুন। কথা বললে, কথা সেট হবে।

জিসক সম্পর্কে আরও:

  • আমার গত বছরের ব্লগটি পড়তে পারেন এখানে: http://wp.me/pOTMB-55
  • জিসক ২০১৪ সম্পর্কে পরবর্তী তথ্যসমূহ জানতে ও পূর্বের বছরের বাংলাদেশী জিসক অংশগ্রহনকারীদের নিকট হতে,  শিখতে চাইলে কিংবা প্রশ্ন করতে চাইলে – GSoC Bangladesh ফেসবুক গ্রুপে এখানে যোগ দিতে পারেন: https://www.facebook.com/groups/GSoCBD/
  • GSoC Bangladesh এর মেইলিং লিস্টে যোগ দিতে পারেন এখানে: https://groups.google.com/forum/?fromgroups#!forum/gsoc-bangladesh
Advertisements

আপনাকে আমাদের প্রয়োজন

প্রিয় উদ্যোক্তা,

আপনাকে আমাদের প্রয়োজন। আমরা – অর্থাৎ পৃথিবী। হ্যাঁ আপনি সঠিক পড়েছেন। আপনাকে পৃথিবীর প্রয়োজন।

আমাকে ব্যাখ্যা করতে দিন: স্পেনের যুবকদের বেকারত্বের হার এখন ৬০% – হ্যাঁ শতকরা ষাট ভাগ।
অর্থাৎ বেকার সংখ্যা ৩০ এর নীচে প্রতি দ্বিতীয় জনের একজন অপেক্ষা বেশী। ইতালির যুবকদের বেকারত্বের হার সম্প্রতি ৪০% এ পরিনত হয়েছে।

সমস্ত পৃথিবীতে অন্যান্য দেশে এখন এটাই সত্য। আমাদের গ্রহে সাত বিলিয়নের বেশী বসবাসকারী রয়েছে, সাথে আছে বার্ষিক ১.৩% বৃদ্ধি। যার অর্থ প্রতি ৫০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুন হয় বা হবে। সম্প্রতি আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিলেন যে, পৃথিবীতে আমাদের ২০২০ এর মধ্যে ৬০০ মিলিয়ন চাকরি দরকার।

আমার বিশ্বাস যে, শুধুমাত্র বানিজ্যিক উপায়েই আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারবো। আপনার মত যারা কোম্পানি তৈরি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কিছু সমস্যার সমাধান যারা করেছেন এবং যারা চাকরি তৈরি করেছে এমন লোকদেরই আমাদের প্রয়োজন।

বর্তমনা বিশ্ব একটি অবিশ্বাস্য উত্তেজনাপূর্ণ সময় অতিবাহিত হচ্ছে, যা অনেকের নিকট বেশ ভয়ানক। যদিও সেখানে উত্থান এবং বিপ্লবের সূচনা হচ্ছে, সাথে আমরাও ৫-১০ অথবা এর বেশী বছরের দ্বিগুন অনলাইন জনসংখ্যার সাক্ষী হব। ধারণা করতে পারেন এই গ্রহের জন্য ওয়েবে, উইকিপিডিয়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ২ মিলিয়ন বেশী জনসংখ্যার প্রবেশ কিসের নিদর্শণ।

এজন্য বলতে হচ্ছে – আমাদের জন্যেই, আমাদের চাকুরি বাদ দিতে হবে। এখনই সময়। চলুন এগিয়ে যাই।

সবসময় দৌড়ান, কখনও হাটবেন না।
পাসকাল

পাসকাল ফিনেট, ব্যবসায় উদ্যোগ নিয়ে নিয়মিত লিখে থাকেন http://theheretic.me/ ওয়েব সাইটে। আমি তাঁর অনুমতিক্রমে বিভিন্ন সময়ে তার লেখাগুলো , আমি নিজের মত করে, অনুবাদ করে, আমার ব্লগে প্রকাশ করবো। মূল নিবন্ধের We need you.

জিসক

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এই দুমাস ব্যাপী সময়কালটা আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল। একদিকে উত্তপ্ত রোদ, পানিশূন্য চৌচির মাঠ, লোডশেডিং, পানির আকাল, গরমে ও মশার জ্বালায় নির্ঘুম রাত। আরও রয়েছে হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ও এর সাথে ছুটছাট বৃষ্টি। অন্যদিকে মৌসুমের ফল আম-জাম-লিচু আর আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। মোটামুটি এই আমাদের গ্রীষ্মকাল।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিপাদ্য স্থানে অবস্থিত আরও পশ্চিমে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় গ্রীষ্মকালের চেহারাটা ভিন্ন বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে। গ্রীষ্মের গরমে তারা মোটামুটি একটা লম্বা সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ছুটি পেয়ে থাকে।

ছোটবেলায় আমি স্কুলের পাঠ্যবইয়ের একটি গল্পে পড়েছিলাম। লেখক তার গল্পে, কোন এক গ্রীষ্মে তার ইউরোপ ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছিলেন। তিনি যেই হোটেলটিতে থাকতেন সেখানে একটি ছেলে ফুটফরমাশ খাটত। ঘটনাক্রমে তিনি ছেলেটির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পরেছিলেন। গরীব মনে করে একটি রুটি কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলেটি মোটেও গরীব ছিলনা, তাদের আলিশান বাড়ি ও তার বাবা-মায়ের বেশভূষা দেখে তিনি চমকে গিয়েছিলেন। ছেলেটির বাবা জানিয়েছিল, “এই গ্রীষ্মে তার ছেলে কাজ করে টাকা জমাবে”। আগামী গ্রীষ্মে তিনি আরও টাকা দিয়ে ছেলেকে ইউরোপ ভ্রমনে পাঠাবেন। আমি এই গল্পে কয়েকটি morale পেয়েছিলাম:

  • পড়ালেখার ছুটির ফাঁকে কাজ করতে শেখা
  • পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানার্জন করা, ভ্রমণ করে।
  • নিজে অল্প পরিমানে হলেও, আয় করতে শেখা

যাহোক, পশ্চিমা বিশ্বে গ্রীষ্ম বা সামার তাদের জন্যে শুধুই ছুটি নয়, এটি একটি উৎসব, একটি পার্বন, নতুন কিছু করার সুযোগ। একঘেঁয়েমি কাটিয়ে, তাদের সামার হয়ে উঠে আনন্দের। সামার তাদের জন্যে শুধুই একটি ঋতুর নাম নয়, এটি একটি ক্রিয়াবাচক নাম বা verbal noun। সময় বদলেছে, সভ্যতা আধুনিক থেকে আধুনিকতম হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির রেঁনেসা ঘটেছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে গ্রীষ্মের দাবদাহ আরও বেড়েছে। তবে ছুটি বদলায়নি, স্কুল-কলেজ ঠিক বন্ধ হয়ে যায়, ছয় হতে আট সপ্তাহের জন্যে।

২০০৫ এর গ্রীষ্মে গুগল একটি প্রোগ্রাম আরম্ভ করে, ছাত্রছাত্রীদের ওপেন সোর্স সফট্ওয়্যার ডেভলপমেন্ট এ অবদান রাখতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে। আয়োজন করা হয় গ্রীষ্মের আট সপ্তাহের এক উৎসব, কোডিং এর উৎসব বা কোডিং এর সামার – ইংরেজীতে লিখলে Summer of Code > SoC.

soc-logo-bw2এই আয়োজনে গুগলের লক্ষ্য হচ্ছে:

  • যুবক যুবতীদের ওপেন সোর্স ডেভলপমেন্ট এ যুক্ত হতে উৎসাহিত করা
  • কম্পিউটার সাইন্স ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের স্টুডেন্টদের, তাদের পড়াশোনার সমান্তরালে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ দেওয়া
  • সফট্ওয়্যার ডেভলপমেন্টের প্রয়োজনীয় দক্ষতার উপর বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ
  • ওপেন সোর্স এ আরও নতুন কোড ও নতুন নতুন সংস্করণ যা সকলেরই উপকারে আসবে

পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের ছাত্রছাত্রীরাই সামারের এই আয়োজনে অংশ গ্রহন করে থাকে। আমাদের বাংলাদেশ থেকেও বিগত বছরগুলোতে কয়েকজন অংশগ্রহন করেছিলেন। তবে, এবছর পর্যন্ত তা সাকুল্যে ২০ এর অধিক হবে না। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নাহ ওরা তো অনেক বড় দেশ আর আইসিটি তে অনেক এগিয়ে ওদের কথা বাদ। শ্রীলংকা হতে গতবছর আবেদন কত হয়েছিলো জানিনা, তবে গৃহীত হয়েছিলো ৪২ টি আবেদন। বাংলাদেশ থেকে ৩ জনের আবেদন গৃহীত হয়।

বছরওয়ারী গৃহিত আবেদনের সংখ্যা।

  • ২০০৫ – ৪০০ জন
  • ২০০৬ – ৬০০ জন
  • ২০০৭ – ৯০০ জন
  • ২০০৮ – ১,১২৫ জন
  • ২০০৯ – ৮৫৮ জন
  • ২০১০ – ১,০২৬ জন
  • ২০১১ – ১,১১৫ জন
  • ২০১২ – ১,২১২ জন

গুগল কিন্তু নিজের জন্যে কোন কোডিং করায় না। অন্যের কাজ করিয়ে থাকে। বিভিন্ন মুক্ত সোর্স প্রকল্পের জন্যে কাজটি করা হয়। সামার চলে আসার বেশ কিছুদিন পূর্বেই, গুগল বিভিন্ন অর্গানাইজেশনকে তাদের নামের লিস্টি জমা দিতে বলে, প্রজেক্ট আইডিয়া সহকারে। আইডিয়া গুলো হতে পারে ওপেন সোর্স এপলিকেশন বা ওপেন সোর্স প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের – পূর্বের কোন বাগ ফিক্স করা, নতুন কোন বৈশিষ্ট্য যোগ করা, ডকুমেন্টেশন করা ইত্যাদি। গুগল সেগুলো হতে বেছে একটি তালিকা প্রকাশ করে। এর পর গুগল আহবান করে অভিজ্ঞ কোডারদের, গুরু বা মেনটর হিসেবে নিজের নাম লেখাতে। যারা সামারে ছাত্রছাত্রীদের কোডিং এ গাইড করবেন। তারপর আসে ছাত্রছাত্রীদের পালা। তারা নির্বাচিত প্রকল্প তালিকা হতে, নিজ দক্ষতার সাথে মিল রেখে এক বা একাধিক আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশ করা হয়, গৃহীত আবেদনের তালিকা। আর ততদিনে ঘোষণা হয়ে যায় গ্রীষ্মের ছুটি। ছাত্রছাত্রীরা নেমে পরে কোডিং করতে ৮ সপ্তাহের জন্যে। এই ৮ সপ্তাহে কোথাও আটকে গেলে সাহায্য করেন গুরুজনেরা বা মেনটর গণ। গ্রীষ্মের শেষে কোড জমা করা হয় গুগলের নিকট। গুগল খুশি হয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রণোদনা দিয়ে থাকে।

প্রণোদনার অংকটি ছাত্রছাত্রী প্রতি ৫,৫০০ মার্কিন ডলার। ৫০০ ডলার পান মেনটর। আর ৫০০০ ডলার তিন কিস্তিতে ছাত্র বা ছাত্রীকে দেয়া হয়। এই টাকা একটি প্রিপেইড আন্তর্জাতিক ভিসা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হয়। যা গুগল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠিয়ে থাকে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গুগল আয়োজন করেছে GSoC 2013। এবছর ৪১৭ টি প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে হতে ৪০টি নতুন সহ মোট ১৭৭ টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান সমূহের তালিকা

যারা অংশগ্রহন করতে আগ্রহী তাদের ২২শে এপ্রিল হতে ৩রা মে ২০১৩ এর মধ্যে আবেদন করতে হবে। একজন সর্বাধিক পাঁচটি প্রকল্পে আবেদন করতে পারবে, তবে গৃহিত হবে একটি। আবেদন করতে হবে জিসক প্রকল্পের হোমপেজ গুগল হাইফেন মিলেঙ্গে ডট কমে।

জিসক ২০১৩ এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ –

    • ২২শে এপ্রিল – ছাত্রছাত্রীদের আবেদন গ্রহন শুরু
    • ৩রা মে – আবেদন গ্রহনের শেষ তারিখ
    • ২৭শে মে – ছাত্রছাত্রীদের গৃহীত প্রস্তাবনার তালিকা প্রকাশ
    • ১৭ই জুন – কোডিং আরম্ভ
    • ২৯শে জুলাই – মিডটার্ম সাবমিশন শেষ তারিখ
    • ২৩শে সেপ্টেম্বর – পেন্সিল ডাউন
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর – গুগলের নিকট প্রয়োজনীয় কোড জমাদান শুরু
    • ১লা অক্টোবর – জিসক ২০১৩ এর চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা

কিছু প্রয়োজনীয় লিংক –

Raspberry Pi সহজিয়া

লেখাটি শুধুমাত্র তাদের জন্যে, যারা নিজেদের সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারী মনে করেন।

রাস্পবেরী পাই (Raspberry Pi) জিনিসটি কি?
যদিও বাংলাদেশে আমরা কম্পিউটার বলতে সিস্টেম ইউনিট, মনিটর, মাউস ও কিবোর্ড সমেত একটি প্যাকেজ কে বুঝিয়ে থাকি। আদতে একটি কম্পিউটারের অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অংশ হচ্ছে, প্রসেসর এবং র‍্যাম। প্রসেসর কে আমি তুলনা করি বাবুর্চী এর সাথে, আর র‍্যাম কে মনে করি পাতিল। ব্যস, এই দুইয়ে মিলে ডাটা রান্না করে, উপাত্ত পরিবেশন করাই হল কম্পিউটিং। এখন বাবুর্চী ও র‍্যাম যে স্থানে (রান্নাঘর) থাকেন, সেটি একটি সার্কিটবোর্ড (মাদারবোর্ড)। রান্নার পর পরিবেশন এর জন্যে প্রয়োজন হয় থালা (মনিটর), বাটি (প্রিন্টার), পেয়ালা (স্পিকার)। তো বিলেতের একদল লোক সেই বাবুর্চি, পাতিল ও রান্নাঘরকে ছোট করে একটি বোর্ড বানিয়েছেন। সেটিই হল রাস্পবেরী পাই। এটির আকার বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র হতে সামান্য বড়। মূল্য মাত্র ৩৫ মার্কিন ডলার।

আমাদের দেশে রাস্পবেরী পাই এর কোন পরিবেশক নেই। কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রাপ্ত মাত্র দুটি ভিনদেশী প্রতিষ্ঠান এটি উৎপাদন ও বিপনন করে থাকে। তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা কার্ড ব্যবহার করে এটি ক্রয় করা যায়। পৃথিবীর যেকোন স্থানে শিপিং ফি প্রদান সাপেক্ষে ডেলিভারি পাওয়া যাবে। যাদের সেই উপায় নেই, তারা বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয় ও বন্ধুদের অনুরোধ করতে পারেন। তবে বাংলাদেশের ডাকে কিংবা বেসরকারী কুরিয়ারে এসব আনতে গিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনার স্বীকার হয়েছেন। তাই প্রবাসে ক্রয় করে, নিজে বা অন্য কারো সহায়তায় সাথে করে নিয়ে আসা সবচে’ সুবিধাজনক।

আরেকবার বলি – এটি সাধারণ মানের এক-সার্কিট বোর্ড বিশিষ্ট একটি কম্পিউটার। অনেক পরিবেশক এর সাথে কিবোর্ড, মাউস, HDMI কেবল, পাওয়ার এডাপ্টার, কেসিং ইত্যাদি বিক্রয় করে থাকেন। তবে বেশীরভাগ সময় নিচের মত শুধু বোর্ড ক্রয়-বিক্রয় করা হয়ে থাকে। আপনিও হয়ত সেরকমই শুধু বোর্ড পেয়েছেন।

Raspberry_Pi_Photoশুধু রাস্পবেরী পাই বোর্ড।

অর্থাৎ, আপনাকে আরও বেশকিছু যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে হবে।

  • একটি ৫ভোল্টের পাওয়ার এডাপ্টার, যার মাইক্রো ইউএসবি (MicroUSB) কানেক্টর রয়েছে। (আমি আমার সামস্যাং গ্যালাক্সি ওয়াই এর চার্জার ব্যবহার করেছি। বর্তমানে অনেক মোবাইল ফোনের এইরকম চার্জার রয়েছে।)

MicroB_USB_Plugছবি – মাইক্রো ইউএসবি কানেক্টর।

  • একটি ইউএসবি কিবোর্ড – অর্থ্যাৎ যে কিবোর্ডে নিম্নরূপ কানেক্টর রয়েছে

ছবি – ইউএসবি মেইল কানেক্টর।ছবি – ইউএসবি মেইল কানেক্টর।

  • গ্রাফিক্যাল ডেস্কটপ ব্যবহার করতে একটি ইউএসবি মাউস প্রয়োজন হবে।
  • একটি এসডি (SD) মেমোরি কার্ড, যেটিতে এই কম্পিউটার চালনা করার জন্য উপযোগী বিশেষ অপারেটিং সিস্টেম থাকবে। (আপনার উইন্ডোজ এক্সপি, ভিসতা বা সেভেন একটি অপারেটিং সিস্টেম)। আমি নিজে আগে থেকে (রাস্পবিয়ান ওএস) ইনস্টল করা এসডি কার্ড ক্রয় করেছি। আমার মতে আপনিও অনুরূপ এসডি কার্ড ক্রয় করুন।
  • একটি টেলিভিশন বা ডিজিটাল কম্পিউটার মনিটর। যেখানে আরসিএ কম্পোনেন্ট, ডিভিআই অথবা এইচডিএমআই ইনপুট ব্যবস্থা রয়েছে। ভিজিএ কাজ করবে না।
  • টিভি অথবা মনিটর এর ধরন অনুযায়ী, একটি কেবল প্রয়োজন যা রাস্পবেরী পাইকে যুক্ত করবে। কি ধরণের কেবল লাগবে, তা নির্ভর করে সংযোগ ধরনের উপর।
    • RCA কেবল দেখতে নিম্নরূপ হয় (সাধারণত লাল এবং সাদা রং ব্যবহৃত হয় শব্দের জন্যে, আর হলুদ প্রান্তটি ব্যবহার করা হয় ভিডিও এর জন্য। তবে আমাদের নিকট এটি বিষয় নয়, উভয় প্রান্ত এক রংয়ের হওয়াটা জরুরী। Radio Corporation America এই কানেক্টর এর উদ্ভাবক, তাই এর নাম RCA কানেক্টর।)

RCA Composite-cablesছবি – RCA কানেক্টর।

  • রাস্পবেরী পাই বোর্ডে একটি HDMI পোর্ট রয়েছে। হাই ডেফিনেশন মিডিয়া ইন্টারফেস টি বর্তমানে HD কোয়ালিটি টেলিভিশন শিল্পে বহুল পরিচিত। এই কেবল ব্যবহার করে আমরা RasPi বোর্ডের সাথে যেকোন আধুনিক মনিটর কিংবা LCD টেলিভিশনে সহজেই ভিডিও সংযোগ দিতে পারবো। এক্ষেত্রে উপরের RCA কানেক্টরের আর কোন প্রয়োজন হবে না।

HDMI_connector-maleছবি – এইচ.ডি.এম.আই. কেবল।

  • একটি RJ45 এর ইথারনেট কেবল লাগবে, রাস্পবেরী পাইকে রাউটার, সুইচ কিংবা হাবে সংযুক্ত করতে। রাস্পবেরীতে বিল্ট ইন ওয়াইফাই নাই, আপনার বাসার ইন্টারনেট এর সাথে লোকাল ল্যান দ্বারা ইন্টারনেট সংযোগ করতে হবে।

Ethernet_RJ45_connectorছবি – ইথারনেট কেবল এর প্রান্তে RJ45 কানেক্টর।

  • রাস্পবেরী পাই হতে শব্দ-গীতসংগীত শুনতে, হেডফোন বা স্পিকার সংযোগ করা যাবে। তবে সাড়ে তিন মিলিমিটারের স্টেরিও কানেকশন জ্যাক লাগবে, নিম্নরূপ। বর্তমানে বেশীরভাগ মোবাইল ফোনে এই মাপের ছিদ্র থাকে, হেডফোন লাগানোর জন্যে। অতএব, আপনার মোবাইলের হেডফোনও কাজে লাগতে পারে। উপরের HDMI কেবল ব্যবহার করলে, এই আলাদা সাউন্ড জ্যাক এর প্রয়োজন হবে না।

Audio-TRS-Mini-Plug

ছবি – 3.5 mm স্টেরিও কানেকশন জ্যাক।

  • প্লাস্টিকের আধার (casing) পাওয়া যায়, রাস্পবেরী পাই বোর্ড এর জন্য। যা কোনক্রমেই অত্যাবশ্যকীয় নয়। তবে, সার্কিটবোর্ড শত্রু স্ট্যাটিক ইলেক্ট্রিক চার্জ হতে নিরাপদ থাকতে একটি ক্যাসিং উপকারী।

সবগুলো জিনিস একসাথে সংযোগ করা খুব কঠিন কিছু নয়। কারণ, সবগুলো সংযোগ ভিন্ন আকার, আকৃতি ও বর্ণের। চাইলেও ভুল হবার সম্ভাবনা নেই। পাওয়ার উৎস অবশ্যই ৫ ভোল্টের বেশী হওয়া চলবে না।

Selection_036

ব্যস, সবকিছু লাগিয়ে পাওয়ার দিলেই, আপনার টিভি (বা মনিটরে) কিছু সময়ের মধ্যেই চলে আসবে ৩৫ ডলার মূল্যের Raspberry Pi পিসির, রাস্পবিয়ান ওএস ডেস্কটপ। আরও জানতে পড়ুন – Raspberry Pi Quick Start Guide: http://www.raspberrypi.org/quick-start-guide

[সবগুলো ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স হতে প্রাপ্ত। শেষের ছবিটি রাস্পবেরী পাই এর কুইক স্টার্ট গাইড হতে নেওয়া।]