Category Archives: Event

মজিলা ইভেন্ট আয়োজন – উত্তরণ ১

টিকা: লেখাটি মাস দুয়েক পূর্বে আরম্ভ করেছিলাম। লক্ষ্য ছিলো, সম্পূর্ণ লিখে প্রকাশ করবো। কিন্তু অত্যাধিক বড় লেখা হয়ে যাচ্ছে এবং অনেকদিন সময় লাগছে। তাই, আংশিক প্রকাশ করলাম। পরবর্তীতে অন্যান্য অংশ লিখে প্রকাশ করবো।
 

পৃথিবীব্যাপী মজিলা কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবীরা (যাদের আমরা মজিলিয়ান বলে থাকি) প্রায়শই বিভিন্ন প্রকার ইভেন্ট আয়োজন করে থাকেন। মজিলিয়ানদের প্রতিভা, প্রাণশক্তি, নিয়মানুবর্তিতা, সহনশীলতা, নমনীয়তা, যোগাযোগের দক্ষতা, নিষ্ঠা, দূরদৃষ্টি (add more adjectives of individual expertise) মজিলাকে একটি ইনক্লুসিভ ও কোলাবোরেটিভ কমিউনিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মজিলার বিভিন্ন ইভেন্টের প্লানিং ও আয়োজনে অংশগ্রহন করে, ব্যক্তিপর্যায়ে একজন নতুন মজিলিয়ান সময় ব্যবস্থাপনা, টিম বিল্ডিং, লিডারশিপ, রিসোর্স ব্যবস্থাপনা, এবং কমিউনিটি বিল্ডিং এর মত দক্ষতা তৈরী ও উন্নয়নে সম্ভাব্য সুযোগ পেয়ে থাকেন।

আমার অভিজ্ঞতা হতে, আমি একটি ইভেন লাইফ সাইকেল লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। এখানে কিছু নিয়ম ও করণীয় পাওয়া যাবে। কিন্তু এগুলো নিতান্তই ডকুমেন্টেশন, একটি ইভেন্টের সফলতা নির্ভর করবে আপনার উপর এবং আপনার আয়োজনে মানের উপর। অভিজ্ঞতা বলতে, বেশ কিছু ছোট-বড় ইভেন্ট অংশগ্রহন এবং কিছু ইভেন্ট পরিকল্পনার অংশগ্রহন এবং সর্বোপরি কয়েকটি ইভেন্ট আয়োজনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি যতটুকু শিখতে পেরেছি, সেটি প্রকাশ করার চেষ্টা করছি।

ইভেন্ট প্লান তৈরী করা

কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের, পরিকল্পনা প্রণয়ন আপনাকে সুশৃঙ্খল ও সহজ পথে একটি সফল আয়োজনের দিকে এগুতে সাহায্য করবে। অনেকেই বলে থাকেন, যেকোন কাজের পরিকল্পনা করা, মুল কাজের ৫০শতাংশ করে ফেলা।

বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে, আমি বয় স্কাউট করতাম। বাংলাদেশ স্কাউটের বার্ষিক তাঁবু বাসে, বিভিন্ন প্রকার শিক্ষণীয় খেলায় অংশগ্রহন করতাম আমরা। প্রতিটি খেলার বিভিন্ন প্রকার বাঁধা থাকতো, যা উত্তরণ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছিলো। আমার ওই নামকরণ অনেক পছন্দ হয়েছিলো। বিভিন্ন খেলা শেষে শিক্ষকগণ বলতেন, উত্তরন এক সফল হয়েছে, উত্তরণ দুই শেষ হল। তুমি উত্তরণ তিন পার করলে, এখন উত্তরন চারের পালা। সবগুলো বাঁধা অতিক্রম করতে না পারলেও, আমরা খুশি হতাম। কারণ, আমরা একটি না একটি উত্তরণ পার করে এসেছি, উত্তীর্ণ হয়েছি। অর্থ্যাৎ সবগুলো বাঁধা অতিক্রম করে সম্পূর্ণ খেলা শেষ না করতে পারলেও, ব্যর্থতার কোন ধারণাই আসত না মাথায়। বিষয়টা ছিল এমন যে, ছাত্ররা যতটুকুই পারবে, ততটুকু নিয়ে আলোচনা হবে, যা করতে পারলো না বা যতটুকু ব্যর্থ হল, সেটির কোন উল্লেখ বা আলোচনাই নেই। অনেকগুলো হতে, একটি বাঁধাও অতিক্রম করলেই উত্তীর্ণ। তাই আমি এখানে, অনুষ্ঠান আয়োজনের বিভিন্ন স্তরকে উত্তরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। কারণ, একটি স্তর পার করতে পারলেই সফলতার একটি ধাপ ছোঁয়া হয়ে গেলো।

উত্তরণ ১: কমিউনিটি এসেসমেন্ট ও অর্গানাইজিং

মজিলার প্রায় সকল অনুষ্ঠান উন্মুক্ত হয়। উন্মুক্ত একটি অনুষ্ঠানের জন্যে কিছু বিষয় লক্ষনীয়, চিন্তনীয়, ধর্তব্য। তবে, শুধু আমন্ত্রন নির্ভর হলে, বিষয়গুলো খুব প্রয়োজনীয় নয়।

বর্তমানে চলমান কার্যক্রমসমূহ – নিশ্চিত হতে হবে, কোন কোন কাজ (activity) কিংবা প্রকল্প বর্তমানে কমিউনিটিতে চলছে, আর সেটি কমিউনিটির প্রয়োজন মেটাচ্ছে কিনা। আপনার কর্মপ্রচেষ্টা, বর্তমান কোন প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি বা সাংঘর্ষিক হবে কিনা? ‌‌

এবং, আপনার পূর্বতন কোন activity কিংবা আয়োজন কোন অনুষ্ঠান, আপনার কমিউনিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে অগ্রগামী করেছে কিনা?

প্রয়োজনীয়তা – আদতে এধরনের অনুষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে কিনা? যদি প্রয়োজনীয়তা থাকে, তাহলে কোন ধরনের অনুষ্ঠান কমিউনিটির জন্যে সর্বোৎকৃষ্ট সহায়ক হবে?

কমিউনিটির সাথে ব্রেইনস্টর্মিং করা

আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে একাধিক অগ্রজ-অনুজ মজিলিয়ান এবং কমপক্ষে একজন কমিউনিটি লিডারের সাথে আলোচনা করুন। অনুষ্ঠান করার আইডিয়া মাথায় আসার পর হতেই এটি আরম্ভ করতে পারেন। আলোচনা করে দেখুন, তারা কোন প্রকারের কাজ(Activity)/অনুষ্ঠান করতে বলেন ও আপনাকে কি প্রকার সহায়তা প্রদান করতে পারবেন। আপনার আইডিয়া নকল হবার ভয় থাকলে, আইডিয়াটি টুইট করে ফেলুন #MozBDEventIdea হ্যাশট্যাগ এবং @MozillaBD যুক্ত করে। টুইট বার্তা, ফেসবুক স্টাটাসের মত, সম্পাদনা করা যায়না। অতএব, পূর্বের তারিখের আপনার একটি টুইট, গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। আমি সদ্যজাত আইডিয়া ফেসবুক স্টাটাস আকারে দেওয়া নিরুৎসাহিত করবো। এতে হিতে বিপরীত হয়, তথাকথিত বিফেবু – বিজ্ঞফেসবুকিয়ানদের জন্যে।

মজিলা মিশন–  আমাদের এই মুভমেন্ট, আমাদের সকল কর্মকাণ্ড এবং অনুষ্ঠান আয়োজন অতি অবশ্যই, মজিলার মিশনের সমান্তরাল হতে হবে। প্রয়োজনে, এই উত্তরণে মজিলা মিশন বেশ কয়েকবার পড়ে নিতে হবে। হৃদয়ঙ্গম করতে অপারগ হলে, অগ্রজ মজিলিয়ানদের শরণাপন্ন হয়ে, ঝালিয়ে নিতে হবে।

অবশ্যই সচেতন হতে হবে যে, আপনি কি এমন কোন দৃষ্টিভঙ্গী উপস্থাপন করছেন, যা মজিলা পারসপেক্টিভে সঠিক নয় কিংবা কমিউনিটিতে অপ্রয়োজনীয়, অযাচিত হিসেবে দেখা হয়।

সম্পদ (Resources)– বাংলায় সম্পদ বলতে আমরা শুধু জমি-জমা ও টাকা পয়সাকে বুঝিয়ে থাকি। কিন্তু ইংরেজী resource শব্দটা যেসকল স্থানে ব্যবহৃত হতে দেখেছে, তা হতে আত্মস্থ করেছি এর আসল মানে। কোন একটি কর্ম করতে, যা যা প্রয়োজন, সবগুলোই ওই কাজের সম্পদ।

অনুষ্ঠান আয়োজনের এই উত্তরণে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে, লিডার, মেম্বার ও ভলান্টিয়ার আপনার সাথে যারা আছেন, তাদের দক্ষতা কোন ক্ষেত্রে কতটুকু; খরচ কি পরিমান লাগতে পারে; খরচের সম্ভাব্য উৎস, অন্যান্য সম্পদ যেমন অনুষ্ঠানের জায়গা, আসবাব, যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবাসমূহ।

কতজন ব্যক্তি আপনাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা করবেন, সেটি নিজের মনে গেঁথে নিন। যারা এগিয়ে এসেছেন, তারা আদতে আপনার অনুষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের নির্দিষ্ট কাজ করতে সমর্থ কিনা?

বিনামূল্যে কোন কিছু সহজলভ্য রয়েছে কিনা? তদন্ত করুন, বড় খরচ গুলো বিনামূল্যে বা সৌজন্যে পাওয়া যাবে কিনা। যেমন: ভেনু, খাবার, আসবাব, প্রজেক্টর, সাউন্ড, ইন্টারনেট ইত্যাদি।

কি পরিমান অর্থ সহায়তা মজিলা রেপস এর মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে। একজন রেপস এর সাথে আলোচনা করতে পারেন।

অন্য কোন সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যাবে কিনা?

খরচের খাত ও পরিমান যৌক্তিক কিনা? জনপ্রতি কত খরচ হবে?

কোনপ্রকার সেবার প্রয়োজন আছে কিনা? যেমন, কোন স্থান হতে কোন কিছু নিয়ে আসা, ভারি জিনিসপত্র নাড়াচড়া করা, বিকল্প বিদ্যুত সংযোগ ইত্যাদি। যা আপনি নিজে ও আপনার সহযোগীরা করতে অপারগ। মোট কথা পেশাদার কোন ব্যক্তির সহায়তা ও সংশ্লিষ্ট  খরচ নিশ্চিত হয়ে নিন।

উপরোক্ত তথ্যসমূহ অতীব জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা: লেখাটি আপডেট হতে পারে। বিভিন্ন পয়েন্ট নতুন সংযোজন ও পরিমার্জন করতে পারি, ভবিষ্যতে যেকোন সময়।
Advertisements

জিসক

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এই দুমাস ব্যাপী সময়কালটা আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল। একদিকে উত্তপ্ত রোদ, পানিশূন্য চৌচির মাঠ, লোডশেডিং, পানির আকাল, গরমে ও মশার জ্বালায় নির্ঘুম রাত। আরও রয়েছে হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ও এর সাথে ছুটছাট বৃষ্টি। অন্যদিকে মৌসুমের ফল আম-জাম-লিচু আর আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। মোটামুটি এই আমাদের গ্রীষ্মকাল।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিপাদ্য স্থানে অবস্থিত আরও পশ্চিমে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় গ্রীষ্মকালের চেহারাটা ভিন্ন বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে। গ্রীষ্মের গরমে তারা মোটামুটি একটা লম্বা সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ছুটি পেয়ে থাকে।

ছোটবেলায় আমি স্কুলের পাঠ্যবইয়ের একটি গল্পে পড়েছিলাম। লেখক তার গল্পে, কোন এক গ্রীষ্মে তার ইউরোপ ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছিলেন। তিনি যেই হোটেলটিতে থাকতেন সেখানে একটি ছেলে ফুটফরমাশ খাটত। ঘটনাক্রমে তিনি ছেলেটির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পরেছিলেন। গরীব মনে করে একটি রুটি কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলেটি মোটেও গরীব ছিলনা, তাদের আলিশান বাড়ি ও তার বাবা-মায়ের বেশভূষা দেখে তিনি চমকে গিয়েছিলেন। ছেলেটির বাবা জানিয়েছিল, “এই গ্রীষ্মে তার ছেলে কাজ করে টাকা জমাবে”। আগামী গ্রীষ্মে তিনি আরও টাকা দিয়ে ছেলেকে ইউরোপ ভ্রমনে পাঠাবেন। আমি এই গল্পে কয়েকটি morale পেয়েছিলাম:

  • পড়ালেখার ছুটির ফাঁকে কাজ করতে শেখা
  • পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানার্জন করা, ভ্রমণ করে।
  • নিজে অল্প পরিমানে হলেও, আয় করতে শেখা

যাহোক, পশ্চিমা বিশ্বে গ্রীষ্ম বা সামার তাদের জন্যে শুধুই ছুটি নয়, এটি একটি উৎসব, একটি পার্বন, নতুন কিছু করার সুযোগ। একঘেঁয়েমি কাটিয়ে, তাদের সামার হয়ে উঠে আনন্দের। সামার তাদের জন্যে শুধুই একটি ঋতুর নাম নয়, এটি একটি ক্রিয়াবাচক নাম বা verbal noun। সময় বদলেছে, সভ্যতা আধুনিক থেকে আধুনিকতম হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির রেঁনেসা ঘটেছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে গ্রীষ্মের দাবদাহ আরও বেড়েছে। তবে ছুটি বদলায়নি, স্কুল-কলেজ ঠিক বন্ধ হয়ে যায়, ছয় হতে আট সপ্তাহের জন্যে।

২০০৫ এর গ্রীষ্মে গুগল একটি প্রোগ্রাম আরম্ভ করে, ছাত্রছাত্রীদের ওপেন সোর্স সফট্ওয়্যার ডেভলপমেন্ট এ অবদান রাখতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে। আয়োজন করা হয় গ্রীষ্মের আট সপ্তাহের এক উৎসব, কোডিং এর উৎসব বা কোডিং এর সামার – ইংরেজীতে লিখলে Summer of Code > SoC.

soc-logo-bw2এই আয়োজনে গুগলের লক্ষ্য হচ্ছে:

  • যুবক যুবতীদের ওপেন সোর্স ডেভলপমেন্ট এ যুক্ত হতে উৎসাহিত করা
  • কম্পিউটার সাইন্স ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের স্টুডেন্টদের, তাদের পড়াশোনার সমান্তরালে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ দেওয়া
  • সফট্ওয়্যার ডেভলপমেন্টের প্রয়োজনীয় দক্ষতার উপর বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ
  • ওপেন সোর্স এ আরও নতুন কোড ও নতুন নতুন সংস্করণ যা সকলেরই উপকারে আসবে

পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের ছাত্রছাত্রীরাই সামারের এই আয়োজনে অংশ গ্রহন করে থাকে। আমাদের বাংলাদেশ থেকেও বিগত বছরগুলোতে কয়েকজন অংশগ্রহন করেছিলেন। তবে, এবছর পর্যন্ত তা সাকুল্যে ২০ এর অধিক হবে না। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নাহ ওরা তো অনেক বড় দেশ আর আইসিটি তে অনেক এগিয়ে ওদের কথা বাদ। শ্রীলংকা হতে গতবছর আবেদন কত হয়েছিলো জানিনা, তবে গৃহীত হয়েছিলো ৪২ টি আবেদন। বাংলাদেশ থেকে ৩ জনের আবেদন গৃহীত হয়।

বছরওয়ারী গৃহিত আবেদনের সংখ্যা।

  • ২০০৫ – ৪০০ জন
  • ২০০৬ – ৬০০ জন
  • ২০০৭ – ৯০০ জন
  • ২০০৮ – ১,১২৫ জন
  • ২০০৯ – ৮৫৮ জন
  • ২০১০ – ১,০২৬ জন
  • ২০১১ – ১,১১৫ জন
  • ২০১২ – ১,২১২ জন

গুগল কিন্তু নিজের জন্যে কোন কোডিং করায় না। অন্যের কাজ করিয়ে থাকে। বিভিন্ন মুক্ত সোর্স প্রকল্পের জন্যে কাজটি করা হয়। সামার চলে আসার বেশ কিছুদিন পূর্বেই, গুগল বিভিন্ন অর্গানাইজেশনকে তাদের নামের লিস্টি জমা দিতে বলে, প্রজেক্ট আইডিয়া সহকারে। আইডিয়া গুলো হতে পারে ওপেন সোর্স এপলিকেশন বা ওপেন সোর্স প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের – পূর্বের কোন বাগ ফিক্স করা, নতুন কোন বৈশিষ্ট্য যোগ করা, ডকুমেন্টেশন করা ইত্যাদি। গুগল সেগুলো হতে বেছে একটি তালিকা প্রকাশ করে। এর পর গুগল আহবান করে অভিজ্ঞ কোডারদের, গুরু বা মেনটর হিসেবে নিজের নাম লেখাতে। যারা সামারে ছাত্রছাত্রীদের কোডিং এ গাইড করবেন। তারপর আসে ছাত্রছাত্রীদের পালা। তারা নির্বাচিত প্রকল্প তালিকা হতে, নিজ দক্ষতার সাথে মিল রেখে এক বা একাধিক আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশ করা হয়, গৃহীত আবেদনের তালিকা। আর ততদিনে ঘোষণা হয়ে যায় গ্রীষ্মের ছুটি। ছাত্রছাত্রীরা নেমে পরে কোডিং করতে ৮ সপ্তাহের জন্যে। এই ৮ সপ্তাহে কোথাও আটকে গেলে সাহায্য করেন গুরুজনেরা বা মেনটর গণ। গ্রীষ্মের শেষে কোড জমা করা হয় গুগলের নিকট। গুগল খুশি হয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রণোদনা দিয়ে থাকে।

প্রণোদনার অংকটি ছাত্রছাত্রী প্রতি ৫,৫০০ মার্কিন ডলার। ৫০০ ডলার পান মেনটর। আর ৫০০০ ডলার তিন কিস্তিতে ছাত্র বা ছাত্রীকে দেয়া হয়। এই টাকা একটি প্রিপেইড আন্তর্জাতিক ভিসা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হয়। যা গুগল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠিয়ে থাকে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গুগল আয়োজন করেছে GSoC 2013। এবছর ৪১৭ টি প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে হতে ৪০টি নতুন সহ মোট ১৭৭ টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান সমূহের তালিকা

যারা অংশগ্রহন করতে আগ্রহী তাদের ২২শে এপ্রিল হতে ৩রা মে ২০১৩ এর মধ্যে আবেদন করতে হবে। একজন সর্বাধিক পাঁচটি প্রকল্পে আবেদন করতে পারবে, তবে গৃহিত হবে একটি। আবেদন করতে হবে জিসক প্রকল্পের হোমপেজ গুগল হাইফেন মিলেঙ্গে ডট কমে।

জিসক ২০১৩ এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ –

    • ২২শে এপ্রিল – ছাত্রছাত্রীদের আবেদন গ্রহন শুরু
    • ৩রা মে – আবেদন গ্রহনের শেষ তারিখ
    • ২৭শে মে – ছাত্রছাত্রীদের গৃহীত প্রস্তাবনার তালিকা প্রকাশ
    • ১৭ই জুন – কোডিং আরম্ভ
    • ২৯শে জুলাই – মিডটার্ম সাবমিশন শেষ তারিখ
    • ২৩শে সেপ্টেম্বর – পেন্সিল ডাউন
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর – গুগলের নিকট প্রয়োজনীয় কোড জমাদান শুরু
    • ১লা অক্টোবর – জিসক ২০১৩ এর চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা

কিছু প্রয়োজনীয় লিংক –

Preparation meeting for Fedora 17 Release Party

Yesterday 10th March me, Imtiaz bhai and Rejaul (all Fedora Ambassadors) met in Helvetia Motijheel for a cup of coffee to discuss and compile a draft plan for the release party.

image

Waiting for others at Helvetia Motijheel.

I went there just 5 minutes after 4:00 PM, traffic from home to Motijheel was too less due to weekend in the commercial area. I waited 10 minutes and found Imtiaz bhai and rejaul would be late, so I ordered a cappuccino.

image

(L-R) Imtiaz Bhai, Rejaul and me.

It was a great experience with the fellow ambassadors for the first time planning something together. We discussed, raised, agreed and disagreed various issues for the release party.

At the end we decided to discuss more amongst fedora users and Ambassadors through mailing list. After finalizing we shall publish the plan. If you are interested to discuss and suggest plesae subscribe to Bangladesh Fedora users mailing list, join the Fedora Bangladesh Facebook group here and the Releae Party Event page is here.

পুরাতন ঢাকায় DiOD এর ফোটো ওয়াক।

আগামী ৩১শে ডিসেম্বর, শুক্রবার ২০১০ DiOD এর উদ্যোগে একটি ফোটো ওয়াক এর আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই জন্যে ফেসবুকের DiOD গ্রুপে একটি ইভেন্ট ক্রিয়েট করা হয়েছে। যার গ্রুপ নোটিফিকেশন আপনারা ফেসবুক কিংবা আপনাদের মেইলে পেয়েছেন।

ফটোওয়াক হচ্ছে, কিছু সংখ্যক লোক দলবদ্ধ হয়ে রাস্তায় হাঁটবে ও আশেপাশের দৃশ্য, মানুষ ও স্থাপনার ছবি তুলবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শৌখিন এবং পেশাজীবি ফটোগ্রাফাররা এরকম ফটোওয়াক করে থাকেন। শৌখিন বা অ্যামেচার ফটোগ্রাফাররা পেশাজীবি বা প্রফেশনালদের নিকট হতে ফটোওয়াক চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন টিপস ও কলাকৌশল জানার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

আমরা ফটোওয়াক টি আয়োজন করেছি মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায়, পুরাতন ঢাকার ছবির ভান্ডার সমৃদ্ধ করার নিমিত্তে। উইকিপিডিয়ায় আমাদের এই পুরাতন ঢাকার ছবির বড়ই অভাব রয়েছে। আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পুরাতন ঢাকার ছবি আমাদেরই তুলতে হবে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙ্গা হচ্ছে, নগরায়ণের আগ্রাসনে আমাদের চিরচেনা মহল্লা পাড়া হয়ে উঠছে ইট-কংক্রিটের জঙ্গল। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম হয়তো জানতেই পারবেনা পুরাতন ঢাকার গৌরবময় ইতিহাস, এবং হীনমন্যতায় ভুগবে।

আজাদ সিনেমা হল। ২৪শে জানুয়ারী ২০০৮ সালে ছবিটি আমি তুলেছিলাম। প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরনো এই হলটি, হয়তো কোন একদিন ভেঙ্গে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট তৈরী করা হবে।

শুধু নিজেদের জন্যে নয় – পুরাতন ঢাকার বাইরে, দেশে-বিদেশে অনেকেই আমাদের সম্পর্কে জানেন না। বর্তমানে এই ইন্টারনেটের যুগে উইকিপিডিয়া আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে – নিজের পরিচয় দেয়ার।

আসুন আমরা দ্বায়িত্ব কাঁধে তুলে নেই। ডিএসএলআর, পয়েন্ট এন্ড শুট বা মোবাইল ক্যামেরা – যার যা আছে নিয়ে চলে আসুন। শুক্রবার সকাল ১০টায় লক্ষীবাজার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ হতে হাঁটা আরম্ভ করবো। দিনের আলো থাকা পর্যন্ত – যতক্ষণ ছবি তোলা যায়, সারাদিন ছবি তুলবো। তারপর সব ছবি একত্র করে, বেছে তুলে দিবো উইকিপিডিয়ার জন্য।

আমাদের সাথে থাকবেন, পুরাতন ঢাকার একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার মীর রাশেদ আলি। আমরা অনেকেই হয়তো তাঁকে চিনি না। চিনবো কিভাবে – আমরা তো একত্রে জমায়েত হই খুব কম। আসুন পরিচিত হই।