Tag Archives: GSoC

জিসক ২০১৪

পাঁচ কোটি লাইন ওপেন সোর্স কোড।

GSOC 2014 logo-blog

আবার চলে এলো জিসক। বেশ অনেকদিন পূর্বে ৮ই অক্টোবর ২০১৩ তেই জিসক ২০১৪ ঘোষণা করা হয়েছিলো। এবারে জিসক এর ১০ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বেশ কিছু নতুন ঘোষণা এসেছে,

    • বিগত বছরগুলোতে সর্বোচচ সংখ্যক ছাত্র যেসব দেশ থেকে অংশগ্রহন করা হয়েছে, জিসক কর্তৃপক্ষ সেই ১০টি দেশ ঘুরে প্রচারণা করবেন, এই প্রকল্প, স্থানীয় ছাত্র ও মেন্ট রদের।
    • ছাত্রদের প্রণোদনা বা stipend এর ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৫,৫০০ ডলার করা হয়েছে।

বিগত যেকোন বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারী নেওয়া হবে। অর্থ্যাৎ প্রায় ১,৩০০ ছাত্র-ছাত্রী এবার সুযোগ পাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:

  • ২৪শে ফেব্রুয়ারী: নির্বাচিত মেন্টরিং প্রতিষ্ঠানসমূহের তালিকা প্রকাশ

  • ১০ই মার্চ: ছাত্র-ছাত্রীদের অবেদন প্রক্রিয়া আরম্ভ

  • ২১শে মার্চ: আবেদন গ্রহন ডেডলাইন

অতীব গুরুত্বপূর্ণ: ২৪শে ফেব্রুয়ারীর পর থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারী পূর্ব পর্যন্ত ছাত্ররা পছন্দনীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে যোগাযোগ করে, প্রকল্প আইডিয়া দিতে পারেন। আপনার আইডিয়া গৃহীত হলে, আপনি আবেদন প্রক্রিয়া আরম্ভ হওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলে, নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। সংকোচ করবেন না, যোগাযোগ করুন। কথা বললে, কথা সেট হবে।

জিসক সম্পর্কে আরও:

  • আমার গত বছরের ব্লগটি পড়তে পারেন এখানে: http://wp.me/pOTMB-55
  • জিসক ২০১৪ সম্পর্কে পরবর্তী তথ্যসমূহ জানতে ও পূর্বের বছরের বাংলাদেশী জিসক অংশগ্রহনকারীদের নিকট হতে,  শিখতে চাইলে কিংবা প্রশ্ন করতে চাইলে – GSoC Bangladesh ফেসবুক গ্রুপে এখানে যোগ দিতে পারেন: https://www.facebook.com/groups/GSoCBD/
  • GSoC Bangladesh এর মেইলিং লিস্টে যোগ দিতে পারেন এখানে: https://groups.google.com/forum/?fromgroups#!forum/gsoc-bangladesh
Advertisements

জিসক

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এই দুমাস ব্যাপী সময়কালটা আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল। একদিকে উত্তপ্ত রোদ, পানিশূন্য চৌচির মাঠ, লোডশেডিং, পানির আকাল, গরমে ও মশার জ্বালায় নির্ঘুম রাত। আরও রয়েছে হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ও এর সাথে ছুটছাট বৃষ্টি। অন্যদিকে মৌসুমের ফল আম-জাম-লিচু আর আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। মোটামুটি এই আমাদের গ্রীষ্মকাল।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিপাদ্য স্থানে অবস্থিত আরও পশ্চিমে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় গ্রীষ্মকালের চেহারাটা ভিন্ন বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে। গ্রীষ্মের গরমে তারা মোটামুটি একটা লম্বা সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ছুটি পেয়ে থাকে।

ছোটবেলায় আমি স্কুলের পাঠ্যবইয়ের একটি গল্পে পড়েছিলাম। লেখক তার গল্পে, কোন এক গ্রীষ্মে তার ইউরোপ ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছিলেন। তিনি যেই হোটেলটিতে থাকতেন সেখানে একটি ছেলে ফুটফরমাশ খাটত। ঘটনাক্রমে তিনি ছেলেটির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পরেছিলেন। গরীব মনে করে একটি রুটি কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলেটি মোটেও গরীব ছিলনা, তাদের আলিশান বাড়ি ও তার বাবা-মায়ের বেশভূষা দেখে তিনি চমকে গিয়েছিলেন। ছেলেটির বাবা জানিয়েছিল, “এই গ্রীষ্মে তার ছেলে কাজ করে টাকা জমাবে”। আগামী গ্রীষ্মে তিনি আরও টাকা দিয়ে ছেলেকে ইউরোপ ভ্রমনে পাঠাবেন। আমি এই গল্পে কয়েকটি morale পেয়েছিলাম:

  • পড়ালেখার ছুটির ফাঁকে কাজ করতে শেখা
  • পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানার্জন করা, ভ্রমণ করে।
  • নিজে অল্প পরিমানে হলেও, আয় করতে শেখা

যাহোক, পশ্চিমা বিশ্বে গ্রীষ্ম বা সামার তাদের জন্যে শুধুই ছুটি নয়, এটি একটি উৎসব, একটি পার্বন, নতুন কিছু করার সুযোগ। একঘেঁয়েমি কাটিয়ে, তাদের সামার হয়ে উঠে আনন্দের। সামার তাদের জন্যে শুধুই একটি ঋতুর নাম নয়, এটি একটি ক্রিয়াবাচক নাম বা verbal noun। সময় বদলেছে, সভ্যতা আধুনিক থেকে আধুনিকতম হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির রেঁনেসা ঘটেছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে গ্রীষ্মের দাবদাহ আরও বেড়েছে। তবে ছুটি বদলায়নি, স্কুল-কলেজ ঠিক বন্ধ হয়ে যায়, ছয় হতে আট সপ্তাহের জন্যে।

২০০৫ এর গ্রীষ্মে গুগল একটি প্রোগ্রাম আরম্ভ করে, ছাত্রছাত্রীদের ওপেন সোর্স সফট্ওয়্যার ডেভলপমেন্ট এ অবদান রাখতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে। আয়োজন করা হয় গ্রীষ্মের আট সপ্তাহের এক উৎসব, কোডিং এর উৎসব বা কোডিং এর সামার – ইংরেজীতে লিখলে Summer of Code > SoC.

soc-logo-bw2এই আয়োজনে গুগলের লক্ষ্য হচ্ছে:

  • যুবক যুবতীদের ওপেন সোর্স ডেভলপমেন্ট এ যুক্ত হতে উৎসাহিত করা
  • কম্পিউটার সাইন্স ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের স্টুডেন্টদের, তাদের পড়াশোনার সমান্তরালে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ দেওয়া
  • সফট্ওয়্যার ডেভলপমেন্টের প্রয়োজনীয় দক্ষতার উপর বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ
  • ওপেন সোর্স এ আরও নতুন কোড ও নতুন নতুন সংস্করণ যা সকলেরই উপকারে আসবে

পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের ছাত্রছাত্রীরাই সামারের এই আয়োজনে অংশ গ্রহন করে থাকে। আমাদের বাংলাদেশ থেকেও বিগত বছরগুলোতে কয়েকজন অংশগ্রহন করেছিলেন। তবে, এবছর পর্যন্ত তা সাকুল্যে ২০ এর অধিক হবে না। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নাহ ওরা তো অনেক বড় দেশ আর আইসিটি তে অনেক এগিয়ে ওদের কথা বাদ। শ্রীলংকা হতে গতবছর আবেদন কত হয়েছিলো জানিনা, তবে গৃহীত হয়েছিলো ৪২ টি আবেদন। বাংলাদেশ থেকে ৩ জনের আবেদন গৃহীত হয়।

বছরওয়ারী গৃহিত আবেদনের সংখ্যা।

  • ২০০৫ – ৪০০ জন
  • ২০০৬ – ৬০০ জন
  • ২০০৭ – ৯০০ জন
  • ২০০৮ – ১,১২৫ জন
  • ২০০৯ – ৮৫৮ জন
  • ২০১০ – ১,০২৬ জন
  • ২০১১ – ১,১১৫ জন
  • ২০১২ – ১,২১২ জন

গুগল কিন্তু নিজের জন্যে কোন কোডিং করায় না। অন্যের কাজ করিয়ে থাকে। বিভিন্ন মুক্ত সোর্স প্রকল্পের জন্যে কাজটি করা হয়। সামার চলে আসার বেশ কিছুদিন পূর্বেই, গুগল বিভিন্ন অর্গানাইজেশনকে তাদের নামের লিস্টি জমা দিতে বলে, প্রজেক্ট আইডিয়া সহকারে। আইডিয়া গুলো হতে পারে ওপেন সোর্স এপলিকেশন বা ওপেন সোর্স প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের – পূর্বের কোন বাগ ফিক্স করা, নতুন কোন বৈশিষ্ট্য যোগ করা, ডকুমেন্টেশন করা ইত্যাদি। গুগল সেগুলো হতে বেছে একটি তালিকা প্রকাশ করে। এর পর গুগল আহবান করে অভিজ্ঞ কোডারদের, গুরু বা মেনটর হিসেবে নিজের নাম লেখাতে। যারা সামারে ছাত্রছাত্রীদের কোডিং এ গাইড করবেন। তারপর আসে ছাত্রছাত্রীদের পালা। তারা নির্বাচিত প্রকল্প তালিকা হতে, নিজ দক্ষতার সাথে মিল রেখে এক বা একাধিক আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশ করা হয়, গৃহীত আবেদনের তালিকা। আর ততদিনে ঘোষণা হয়ে যায় গ্রীষ্মের ছুটি। ছাত্রছাত্রীরা নেমে পরে কোডিং করতে ৮ সপ্তাহের জন্যে। এই ৮ সপ্তাহে কোথাও আটকে গেলে সাহায্য করেন গুরুজনেরা বা মেনটর গণ। গ্রীষ্মের শেষে কোড জমা করা হয় গুগলের নিকট। গুগল খুশি হয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রণোদনা দিয়ে থাকে।

প্রণোদনার অংকটি ছাত্রছাত্রী প্রতি ৫,৫০০ মার্কিন ডলার। ৫০০ ডলার পান মেনটর। আর ৫০০০ ডলার তিন কিস্তিতে ছাত্র বা ছাত্রীকে দেয়া হয়। এই টাকা একটি প্রিপেইড আন্তর্জাতিক ভিসা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হয়। যা গুগল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠিয়ে থাকে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গুগল আয়োজন করেছে GSoC 2013। এবছর ৪১৭ টি প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে হতে ৪০টি নতুন সহ মোট ১৭৭ টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান সমূহের তালিকা

যারা অংশগ্রহন করতে আগ্রহী তাদের ২২শে এপ্রিল হতে ৩রা মে ২০১৩ এর মধ্যে আবেদন করতে হবে। একজন সর্বাধিক পাঁচটি প্রকল্পে আবেদন করতে পারবে, তবে গৃহিত হবে একটি। আবেদন করতে হবে জিসক প্রকল্পের হোমপেজ গুগল হাইফেন মিলেঙ্গে ডট কমে।

জিসক ২০১৩ এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ –

    • ২২শে এপ্রিল – ছাত্রছাত্রীদের আবেদন গ্রহন শুরু
    • ৩রা মে – আবেদন গ্রহনের শেষ তারিখ
    • ২৭শে মে – ছাত্রছাত্রীদের গৃহীত প্রস্তাবনার তালিকা প্রকাশ
    • ১৭ই জুন – কোডিং আরম্ভ
    • ২৯শে জুলাই – মিডটার্ম সাবমিশন শেষ তারিখ
    • ২৩শে সেপ্টেম্বর – পেন্সিল ডাউন
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর – গুগলের নিকট প্রয়োজনীয় কোড জমাদান শুরু
    • ১লা অক্টোবর – জিসক ২০১৩ এর চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা

কিছু প্রয়োজনীয় লিংক –